করোনা থেকে বাঁচতে ও সুস্থ থাকতে সহজ কয়েকটি নিয়ম / Some Simple Rules To Avoid Corona

করোনা থেকে বাঁচতে ও সুস্থ থাকতে সহজ কয়েকটি নিয়ম / Some Simple Rules To Avoid Corona

করোনা প্রতিরোধে অনেকেই অনেক ধরণের বৈজ্ঞানিক ও অবৈজ্ঞানিক তত্ত্ব দিচ্ছেন। তাই নিজের বানানো কোনো তত্ত্ব নয়, চীন সরকার এই করোনা থেকে নিজেকে মুক্ত রাখতে কিছু নিয়ম কানুন জানিয়েছে এবং তাতে অবশ্য তারা বেশ সফলও হয়েছে সেই পরামর্শ গুলি আমরাও আমাদের মতো করে দেখতে পারি —

১. যদি কোনো ব্যক্তির সর্দি, জ্বর বা কাঁশি হয় তাহলে আমরা তো সাথে সাথে বলতে পারছি না যে তার এই লক্ষণ গুলো কিসের লক্ষণ, অনেকের তো এমনিতেও এই গুলা হতে পারে কারণ এখন আমাদের দেশের আবহাওয়াই এমন, আবার অনেকের তো সারা বছর এলার্জির সমস্যা আছেই। কিন্তু এখন সমস্যা হচ্ছে করোনার লক্ষণগুলোও তো এইগুলা তাই কোনো রকম ঝুঁকি না নিয়ে সাথে সাথে ওই ব্যাক্তিকে নিজেকে পরিবারের সবার থেকে আলাদা করে ফেলবে। অর্থাৎ যদি খারাপ কিছু হয় তবে যেন পরিবারের অন্য কাউকে আক্রান্ত করতে না পারে। কারণ যদি পরিবারের সবার হয়ে যায় তবে ঝামেলার শেষ নাইরে ভাই তাই ডাক্তারের সাথে ফোনে পরামর্শ করার আগে পর্যন্ত আলাদা থাকায় ভালো। তবে আপনি এখন এখান থেকেও অনলাইনেও করোনার সম্ভাব্যতা যাচাই করে দেখতে পারেন


২. আপনার প্রয়োজনীয় জিনিস মজুদ করার দরকার নাই, কারণ কদিন পরেই দেখবেন বাজারে প্রচুর মালামাল ক্রেতা নাই। আর তখন দামও কিছুটা কমে আসবে।


৩. আর এই সময়টা খারাপ যাচ্ছে তাই সপ্তাহে ১ দিন বাজার করবেন, বার বার বলা হচ্ছে এই ভাইরাসটা খুব খারাপ তবুও আমরা কেমন যেন উদাসীন। মনে রাখবেন এই ভাইরাসটি আপনার দরজা দিয়ে ঢুকবে তাই বেশি প্রয়োজন না হলে দরজা খুলবেন না আর খুব প্রয়োজন না হলে নিজেও বের হবেন না ।


৪. যেহেতু এই ভাইরাসটি শুধু মানুষ এর মাধ্যমে বিভিন্ন উচ্চ স্পর্শ জায়গার মাধ্যমে ছড়ায় সেহেতু যখন একটি এলাকায় বেশি আকারে ছড়াবে তখন এলাকা ভিত্তিতে লকডাউন করে দেওয়া যায়, যেন ওই সকল এলাকা থেকে ভাইরাসটি অন্য এলাকায় যেতে না পারে অর্থাৎ বাসিন্দাদের মাধ্যমে না ছড়াতে না পারে।


৫. মানুষের শরীরের ভেতর যদি কোনো ভাইরাস থাকে তবে তা মানুষের থুতু, কফ ও সর্দির ভেতরেও বাস করবে। তাই ওই গুলা আমাদেরকে অবশ্যই যেখানে সেখানে ফেলা যাবে না। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।


৬. নাকে, মুখে ও চোখে হাত দেয়াই যাবে না। যদি খুব প্রয়োজন হয় তবে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে দিতে পারেন। মনে রাখবেন ঘরের দরজা দিয়ে যেমন এই ভাইরাসটি আপনার ঘরে ঢুকবে, তেমনি আপনার শরীরে কিন্তু তিনি আপনার নাক, চোখ দিয়ে ঢুকবে। তাই আপনার মুখকে হাত থেকে বাঁচান।


৭. ধরুন ঘরের বাহিরে গেলেন এখন হঠাৎ আপনার ৫ ফিট থেকে কাছে কোনো করোনা রোগী চলে আসলো এবং হাঁচি বা কাশি দিলো আর সেই হালকা বাতাস আপনার নিঃশাসের মাধ্যমে আপনার শরীরের ভেতর চলে গেল ব্যাস হয়ে গেল, আর করোনা আক্রান্ত ব্যাক্তি তো নিজেই জানে না কখন সে ধরা খেলো, তাই ভাই বাহিরে অবশ্যই মাস্ক পড়বেন। ভাই অনেকে অনেক কথা বলবে, কিন্তু আপনার নিরাপত্তা আপনার নিজেকেই নিতে হবে।


৮. বাহির থেকে ঘরে ফিরে সম্ভব হলে কোথাও না বসে সোজা বাথরুমে যেয়ে আপনার শরীরের সকল পোশাক সাবান দিয়ে ভালো মতো ফেনা করে ধুয়ে ফেলবেন অথবা ৭০ ডিগ্ৰি তাপমাত্রার উপরে গরম পানিতে ভিজিয়ে ধুয়ে ফেলুন এবং সাবান দিয়ে গোসল করে নিন, মনে রাখবেন ওই ভাইরাসটি মানুষের শরীরে ঢুকার আগে পর্যন্ত সে চর্বির ছোট ছোট ডিমের মতো তাই চর্বি যে সকল জিনিস দিয়ে নষ্ট হয় তা ব্যবহার করলেই ভাইরাস শেষ। তবে যদি গোসল করা বা কাপড় ধোঁয়ার কোনো সুযোগ না থাকে তবে যে কোনো সাবান দিয়ে হাত ভালো মতো ধুতে হবে।


৯. যেহেতু এই রোগের কোনো ঔষুধ নাই, তাহলে বেশিভাগ মানুষই তো সুস্থ হচ্ছে, সেটা কিভাবে ? সুস্থ হচ্ছে কারন তাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি আর মানুসিক ভাবে অনেক শক্ত তাই। আপনিও আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ান। কিভাবে বাড়াবেন এখান থেকে জানুন

১০. নিয়মিত স্বাস্থ্যকর খাওয়া-দাওয়া ও সাথে ৩০ মিনিট হাটা তা সম্ভব না হলে ঘরেই ব্যায়াম করতে হবে।


১১. অনলাইন ও মিডিয়াতে এখন অনেক ভীতিকর খবর রয়েছে যা আপনাকে মানুসিক ভাবে দুর্বল করে দিতে পারে, তাই যথা সম্ভব তা পরিহার করুন।


১২. সরকার ও ডাক্তাররা থেকে থেকে নির্দেশনা দিচ্ছে তা মেনে চলুন।


যেহেতু ঘরে থাকতেই হচ্ছে তাই এই সময়টা কি করবেন? আপনার সময় টাকে ভালো মতো কাটাতে নিজের প্রতিভাগুলো ঝালাই করে দেখতে পারেন, অথবা অনলাইন এ একটি ট্রেনিং করে নিতে পারেন যা পরবর্তীতে আপনার উপকারে আসতে পারে আর যারা গ্রামে আছেন তারা বাড়ির আসেপাশের খালি জায়গা গুলোতে সবজি, আদা সহ বিভিন্ন গাছ লাগাতে পারেন, বাড়িতে জৈব সার বানানো খুব সোজা, কোনো খরচও নাই , এই বিষয় নিয়ে আরো অনেক কিছু জানতে পারেন। তা ছাড়াও অবশ্যই পরিবারকে সময় দিবেন। ব্যাস্ততাই আপনি ডুবে যাবেন। তবে অবশ্যই সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে। ইনশাআল্লা করোনা চলে যাবে একদিন তখন হয়তো আপনার কাজের চাপ আরো বেড়ে যেতে পারে, কারণ এখন যে শুন্যতার সৃষ্টি হচ্ছে তা তো আপনাকেই পূরণ করতে হবে। তাই নিজেকে ভালো রাখবেন আসাকরি।

Administrator

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!